কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে পরিচালিত এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
হামলায় একাধিক বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর কয়েকটি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার তৎপরতা শেষ না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, পোদিলস্কি জেলার একটি ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল ভবনের ওপরের তলা থেকে শিশুসহ কয়েকজন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ভবনের ভেতরে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার সময় রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হলে বহু বাসিন্দা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। এর ফলে অনেকেই প্রাণে রক্ষা পেলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার সেই সতর্কবার্তার পরপরই কিয়েভে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর রাজধানীতে সেটি ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। নতুন এই হামলার ফলে কিয়েভের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রাও বেড়েছে। বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার কারণে শহরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
