উয়ারী-বটেশ্বরকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ

বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন উয়ারী-বটেশ্বরকে দেশ-বিদেশে আরও পরিচিত করে তুলতে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম, ডাটা কার্ড ও বিশেষ সিলমোহর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্মারক সামগ্রীর প্রকাশনা উদ্বোধন করেন।
প্রকাশিত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর। এসব প্রকাশনার মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উয়ারী-বটেশ্বরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এর পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই স্মারক ডাকটিকিট ও সংশ্লিষ্ট প্রকাশনার মাধ্যমে দেশের গৌরবময় ঐতিহ্য শুধু দেশের মানুষের কাছেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও বেশি পরিচিত হবে। তিনি বলেন, দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এখানে আবিষ্কৃত প্রাচীন নগর, দুর্গপ্রাচীর, মুদ্রা, অলংকার, লৌহশিল্প এবং বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন প্রমাণ করে যে অঞ্চলটি একসময় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও নগরকেন্দ্র ছিল। তাই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ অতীত তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
