জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনেই দেশে এলো ৫৬.৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক।।দ্য এক্স ট্রিবিউন

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬ এ ০৪:৪০ PM0
জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনেই দেশে এলো ৫৬.৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

চলতি জুলাই মাসের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময় এ অঙ্ক ছিল ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবাহ বজায় রয়েছে। গত জুন মাসে দেশে মোট ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে।

এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

এর আগে মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে স্থান করে নেয়।

এরও আগে মার্চ মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এছাড়া এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা এবং প্রবাসী আয়ের ওপর আস্থা বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়।

এই খবরটি শেয়ার করুন: