বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত?

নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করেছে সরকার। এবারের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, লক্ষ্যগুলো উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
গত অর্থবছরে সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল আরও বেশি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাময়িক হিসাবে তা ৪ দশমিক ১৪ শতাংশের আশপাশে সীমাবদ্ধ থাকার আভাস পাওয়া গেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতিও দীর্ঘ সময় ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করেছে। ফলে নতুন অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অধিকাংশ বছরই নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
বিনিয়োগ পরিস্থিতিও বড় একটি বিষয়। উচ্চ সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রভাবিত করছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়ানোও সহজ হবে না।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সরকার উন্নয়ন ব্যয়ে বড় ধরনের বরাদ্দ দিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ।
অর্থাৎ, নতুন বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় রোডম্যাপ হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
