শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ায় আত্মসমর্পণ করতে হবে: রুমিন ফারহানা

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তার জন্য আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে প্রত্যেক নাগরিকের মতো তাকেও বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনা চাইলে দেশে ফিরতে পারেন এবং এতে আইনগতভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে দেশে ফিরে তাকে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে জামিনের আবেদন করতে হবে। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম যেভাবে পরিচালিত হয়, সেই নিয়মেই পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একই ধরনের আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং বিচারিক প্রক্রিয়াই যেকোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির সঠিক পথ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সম্ভাব্য বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়েও মত দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যকর চর্চা রয়েছে এবং এটি সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তার মতে, বাংলাদেশেও যদি বিরোধী দল মন্ত্রণালয়ভিত্তিক একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে সরকারের বিভিন্ন নীতি, কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত নিয়মিত পর্যালোচনা করে, তাহলে তা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
রুমিন ফারহানা বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে, পাশাপাশি উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরামর্শও দিতে পারে। এতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নীতিনির্ভর আলোচনা বাড়বে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র আরও কার্যকর হবে।
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
