ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার, কীভাবে নষ্ট করছে আপনার ঘুমের মান?

দিনের শেষ মুহূর্তে অনেকেরই অভ্যাস হয়ে গেছে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা বা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে তা শুধু ঘুমের সময়ই কমায় না, ঘুমের মানও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঘুম আসতে দেরি হয় এবং অনেকেই গভীর ঘুমে যেতে পারেন না।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে অনিদ্রা, সকালে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, খিটখিটে মেজাজ এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় অবস্থায় থাকে। নতুন তথ্য, ভিডিও বা নোটিফিকেশনের কারণে মস্তিষ্ক বিশ্রামের পরিবর্তে উত্তেজিত থাকে। ফলে শরীর বিছানায় থাকলেও ঘুম সহজে আসে না।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিলেও তা অজান্তেই এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় হয়ে যায়। এটিকে বর্তমানে "ডুমস্ক্রলিং" (Doomscrolling) নামে পরিচিত একটি অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা ঘুমের অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ সময় বই পড়া, হালকা গান শোনা, মেডিটেশন বা প্রার্থনার মতো অভ্যাস মানসিক চাপ কমিয়ে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে।
এ ছাড়া রাতে প্রয়োজন না হলে মোবাইলের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, নাইট মোড ব্যবহার করা এবং ফোন বিছানার পাশে না রেখে কিছুটা দূরে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্য, স্মৃতিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ঘুমের স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলা প্রয়োজন।
